আন্তর্জাতিক

১৩ বছর ধরেই তারা লকডাউনে!

বর্তমানে ‘লকডাউন’ শব্দটির সঙ্গে বিশ্ব নতুন পরিচিত হলেও এই বাস্তবতার সঙ্গে অনেক আগেই মানিয়ে নিয়েছে ফিলিস্তিনের গাজা। দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে চার দেয়ালে বন্দী গাজার মানুষ। তারা ভেবেছিলো করোনাভাইরাস হয়তবা তাদের খুঁজে পাবে না। কিন্তু তাদের সেই আত্নতৃপ্তি বেশি দিন টেকেনি। করোনার মোকাবেলায় এখন লড়তে হচ্ছে হাতিয়ার ছাড়া। 

জবর দখলের মধ্যদিয়ে মূলত ফিলিস্তিনকে দুইভাগে ভাগ করে রেখেছে ইসরায়েল। এর মধ্যে পশ্চিম তীরে যৎসামান্য সুবিধা থাকলেও একঘরে করে রাখা গাজায় নেই নূন্যতম নাগরিক কোন সুবিধা। বর্তমানে মাত্র ৩৬৫ বর্গ কিলোমিটারে এই ভূমিতে ২০ লাখের ওপর মানুষের বসবাস। তাদের জীবন-জীবিকা বলতে কিছু নেই, এখানে ৮০ শতাংশ মানুষ নির্ভর করে সাহায্যের ওপর। ইসরায়েলের বহুমুখী অবরোধের কারণে একটি সুঁইও গাজায় ঢুকতে পারে না। এখানকার কয়েক লাখ মানুষ বাস করে শরনার্থী শিবিরে, আর বাকীরা নিজের বাড়িতে থাকলেও রাত কাটাতে হয় বোমার আতংকে। 

বর্তমানে ফিলিস্তিনে এ পর্যন্ত ৩৫৩ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। এদের মধ্যে মারা গেছে ২ জন। এখন পর্যন্ত গাজায় আক্রান্ত আছেন ১২ জন।  তবে সেখানে কোন মৃত্যু নেই। করোনার বিরুদ্ধে লড়ার জন্য গাজার সম্বল মাত্র ৬৩ টি ভেন্টিলেটর এবং ৭৮ টি আইসিইউ শয্যা।  এ বিষয়ে গাজার যে কয়জন চিকিৎসক আছেন তারা উদ্বিগ্ন। কারণ বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ এ ভূখন্ডে সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা কঠিন। এছাড়া স্বাস্থ্যসেবার সক্ষমতা নেই বললেই চলে। ফিলিস্তিনে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান ডা. জেরাল্ড রোকেনসেয়াব বলেন, ‘গাজায় স্বাস্থ্য ব্যবস্থা একেবারেই দূর্বল, তেমন সুযোগ-সুবিধা নেই। তাই এ মুহুর্তে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি হয়ে পড়েছে।’

এ দিকে গাজায় ইউএসএআইডির পক্ষ থেকে সহায়তা দেয়ার কথা থাকলেও সেটি আটকে দেয়া হয়েছে সেখানে হামাস সুবিধা পাবে এমন কারণ দেখিয়ে। তাই গাজার মানুষ করোনাভাইরাস থেকে বেচেঁ থাকতে নিজেরাই নিজেদের সুরক্ষার চেষ্টা চালাচ্ছে। সেখানে মাস্ক তৈরি করছেন কেউ পাতা দিয়ে, কেউ বোতল দিয়ে, অথবা টিন ও কাপড়ের টুকরো দিয়ে । যা কিনা দৃষ্টি কেড়েছে বিশ্ববাসীরও।

ভূমধ্যসাগরের তীরে অবস্থিত গাজা ইসরায়েল ও মিশর দ্বারা বেষ্টিত। সেখানে সশস্ত্র বাহিনী হামাস গাজার নিয়ন্ত্রণ গ্রহণের পর থেকেই ভূখন্ডটির উপর অবরোধ আরোপ করে ইসরায়েল। বন্ধ করে দেয়া হয় মিশর সীমান্তও।  এছাড়া গাজার স্থল সীমান্তের পাশাপাশি আকাশ ও সমুদ্র পথ সবই বন্ধ করে দেয়া হয়। যার ফলে মানুষের যাতায়াত ও আমদানী-রপ্তানি পুরোটাই কার্যত্ অচল। ভয়াবহ দারিদ্র ও বেকারত্বের পাশাপাশি মাঝে মোঝেই ইসরায়েলি হামলায় পুরো গাজা একটি মৃত্যু উপত্যকা। 

সেখানে পানি ও বিদ্যুত ছাড়াই দিনের পর দিন তাদের কাটাতে হয়। অচল এ অঞ্চলটিকে সচল রাখার জন্য মাটির নীচ নিচ দিয়ে সুড়ঙ্গ করে মাঝে মাঝে অত্যাবশ্যকীয় পণ্য মিশর থেকে আনা নেয়া করে হামাস। কিন্তু ইসরায়েলি মিসাইল মাঝে মাঝে সেই সুড়ঙ্গগুলোও ধ্বংস করে দেয়। ফলে করোনার এ দুঃস্বময়ে আল্লাহর উপর ভরসা করা ছাড়া তাদের আর কোন উপায় নেই। 

সূত্র: আলজাজিরা, এএফপি। 

Show More

Related Articles

Back to top button