অর্থনীতি-ব্যবসা

কৃষকের ধান কেটে ঘরে তুলে দিলেন শিক্ষকরা

আমরা গরীব মানুষ অনেক ধার-দেনা করে এক একর জমিতে ধানের আবাদ করেছিলাম।  বর্তমানে কৃষি শ্রমিক না পাওয়ায় নিজের পরিবারের সদস্যদের হাড় ভাঙা খাটুনি দিয়ে ধানের পরিচর্যা করেছি।  এখন জমির চারিদিকে সোনালী রংয়ের ঝিলিক। বাতাসে ধানের দোল খাওয়া দেখে সমস্ত কষ্টের দিনগুলো ভুলে গেছি। কিন্ত ধান পেকেছে। পাকাধান কেটে ঘরে তুলতে পারছি না। 

একদিকে আকাশে মেঘ। কখন বৃষ্টি নেমে আমার পরিবারের সব স্বপ্ন ভেঙে যাবে। সেই দুশ্চিন্তায় দিন কাটে। অনেক ঘোরা ঘুরি করে কোথাও ধান কাটার শ্রমিক পাচ্ছি না। পরিবারের সবার কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ। কেননা এ জমির ধানই আমার পরিবারের সদস্যদের এক বছরের অন্ন যোগাবে। কি করি, কি করি এ ভেবেই কয়েক দিন পার হল। অবশেষে দেবদূতের মতো হাজির হলো রাজৈর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষরা। তারা এসে জমির সমস্ত ধান কেটে আমার ঘরে তুলে দিল।

কথাগুলো মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার আমগ্রাম দক্ষিণ পাড়ার প্রান্তিক কৃষক সুবাস বালার।

স্থানীয় পর্যায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জেলার রাজৈর উপজেলার আমগ্রাম দক্ষিণ পাড়ার কৃষক সুবাস বালা শ্রমিকের অভাবে তার জমির পাকা ধান ঘরে তুলতে পারছিলেন না। ঠিক এ সময়ে উপজেলা মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষকরা সিদ্ধান্ত নেন সুবাস বালার জমির দান কেটে দেবেন।

বৃহস্পতিবার উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফজলুল হকের নেতৃত্বে একদল শিক্ষক কাস্তে হাতে নেমে পড়েন ধান কাটতে। সুবাস বালার এক একর জমির পাকা ধান কেটে মাথায় করে বাড়ি নিয়ে মাড়াই করে ঘরে তুলে দেন তারা।

উদ্যোগের অগ্রভাগে থাকা রাজৈর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনিন্দ্রনাথ বাড়ৈ বলেন, বর্তমানে দেশজুড়ে লকডাউন চলছে। তাই ফসল ঘরে তুলতে শ্রমিক সংকটে ভুগছেন কৃষকরা। এ চিত্র দেখে শিক্ষকসমাজ ঘরে বসে থাকতে পারে না। তাই শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশনা মোতাবেক আমরা কৃষক সুবাস বালার ধান কেটে ঘরে তুলে দেই।

রাজৈর উপজেলা শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় আলমদস্তার আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহাবুব হোসেন সিকদার বলেন, ‘কৃষক বাঁচলে বাঁচবে দেশ, শেখ হাসিনার নির্দেশ’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে কৃষকের ধান কেটে বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছেন শিক্ষকরা। কারণ আমাদের খাবার যোগান যে কৃষক, আজ তাদের পাশে থাকা আমাদের সবার দায়িত্ব। কৃষকদের পাশে থেকে আমাদের এ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

কৃষক সুবাস বালা বলেন, স্যারেরা আজ আমার বড় উপকার করেছেন। এ জমিতে সামান্য বৃষ্টি হলে ধান তলিয়ে যেত। ধান না কাটতে পারলে আমি পরিবার পরিজন নিয়ে অর্ধাহারে-অনাহারে দিন কাটানো লাগত। স্যারদের এই উপকার কখনো ভুলবার নয়।

এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রাজৈর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ফজলুল হক, আমগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক চৈতন্য কুমার বৈদ্য, মালেক মিয়া মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রদীব কুমার বিশ্বাসসহ প্রায় অর্ধশত শিক্ষক।

সকাল ৭টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত আমগ্রাম বিলের সুবাস বালার এক একর জমির পাকা ধান কেটে ঘরে তুলে দেয়ায় স্থানীয়রা শিক্ষকদের প্রশংসা করেন।

Show More

Related Articles

Back to top button