অর্থনীতি-ব্যবসা

এবার ধান রক্ষার্থে মাঠে বাগেরহাট জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার

বৃষ্টি-জলাবদ্ধতায় পাকা বোরো ধান ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে! এই খবর পেয়ে রবিবার বিকেলে বাগেরহাট জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ ও পুলিশ সুপার পঙ্কজ চন্দ্র রায় ছুটে এসেছিলেন চিতলমারী উপজেলার দুর্গম গ্রামগুলোতে। ত্রিমুখি সমস্যা সেখানে- মাঠে পাকা ধান, বর্ষাকাল আসন্ন এবং নদী-খাল খনন ও স্লুইসগেট নির্মাণাধীন।

তাঁরা সদর ইউনিয়নের খিলিগাতী, রায়গ্রাম, ডুমুরিয়াসহ কয়েকটি গ্রামের ধান ক্ষেত পরিদর্শন করেন। এসময় তাঁরা কৃষকসহ স্থানীয় বাসিন্দা, জনপ্রতিনিধি ও উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলেন। কৃষক যাতে সঠিকভাবে পাকা ধান ঘরে তুলতে পারে সে বিষয়ে তাঁরা পরামর্শ দেন। 

চিতলমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ঋতুরাজ সরকার জানান, একদিকে বোরো ধান পেকেছে। অপরদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের খাল খনন ও স্লুইসগেট নির্মাণ কাজের জন্য মাঠের সঙ্গে সংযোগ খালগুলোতে বাঁধ দেওয়া রয়েছে। এমন অবস্থায় বৃষ্টি হলে পাকা ধান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশংকা রয়েছে। এই বিষয়টি জেনে ‌ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ রবিবার এলাকা পরিদর্শন করেন।

রায়গ্রাম স্লুইসগেট এলাকা পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ বলেন, ‘আমাদের নোটিশে এসেছে- এখানে তিন হাজার হেক্টর জমিতে যে পাকা বোরো ধান আছে, তা বৃষ্টি হলে পানি জমে নষ্ট হতে পারে। কোনো অবস্থাতে যাতে কৃষকের কষ্টার্জিত ফসল বিনষ্ট না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।’ 

পুলিশ সুপার পঙ্কজ চন্দ্র রায় বলেন, ‘মাঠে পাকা ধান। বর্ষাকাল আসন্ন। নদী খনন কাজও চলছে। কৃষক যাতে ফসল সঠিকভাবে ঘরে তুলতে পারে, সে ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সবাই কৃষকদের সাহায্য করব।’

এছাড়া রবিবার বিকেলে এলাকা পরিদর্শনকালে আরো উপস্থিত ছিলেন, চিতলমারী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অশোক কুমার বড়াল, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মারুফুল আলম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পীযূষ কান্তি রায়, সদর ইউপি চেয়ারম্যান মো, নিজাম উদ্দীন সেখ প্রমুখ।

উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরে বোরো আবাদ হয় ১১ হাজার ৪৭০ হেক্টর এবং উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে ৮৫ হাজার ৬১৫ মেট্রিক টন। এর মধ্যে উফশী জাতের ধান রয়েছে নয় প্রকার এবং হাইব্রিড জাতের ধান রয়েছে ৪৩ প্রকার।

Show More

Related Articles

Back to top button