আন্তর্জাতিক

একপ্রান্তে খাদ্যের অপচয়, অন্যপ্রান্তে ক্ষুধা, হাহাকার ও মৃত্যু

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বেশি মানুষ মারা যাবে, না ক্ষুধায়? বিশ্বনেতাদের কাছে এটিই এখন বড় এক প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে। কারণ বিশ্বজুড়ে করোনায় আক্রান্তের হার বাড়তে থাকায় দেশে দেশে শুরু হয় লকডাউন।এতে ভারত, মালয়শিয়া থেকে শুরু করে আমেরিকা পর্যন্ত বহু দেশের কৃষকরাই তাদের উৎপাদিত শাক-সবজি, ফল, দুধ ইত্যাদি নিয়মিত ফেলে দিতে হয় সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়ায়। অথচ তখন বিশ্বের অন্যপ্রান্তে- বিশেষকরে ইয়েমেন, সিরিয়াসহ আফ্রিকার অনেক দেশেই মানুষ খাদ্যের অভাবে দিশেহারা।

যুক্তরাষ্ট্রের দুগ্ধ সমবায় সমিতির এক হিসাবে বলা হয়, করোনাভাইরাসের কারণে এপ্রিলের শুরু থেকে প্রতিদিন কৃষকরা ৩৭ লাখ গ্যালন দুধ ফেলে দিতে হয়েছে। তবে এ অপচয় এখন কমে দৈনিক ১৫ লাখ গ্যালন হচ্ছে। এর পাশাপাশি আলু, টমেটোসহ আরো অনেক খাদ্য কৃষকদের ফেলে দিতে হচ্ছে। এখন পর্যন্ত ৫ বিলিয়ন ডলারের শাক-সবজি ও ফল ফেলে দিতে হয়েছে।

খাদ্য ফেলে দেয়ার এ দৃশ্য দেখা গেছে ভারত, মালয়শিয়া, যুক্তরাজ্যসহ আরো অনেক দেশে। এর বিপরীতে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য সংস্থা সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, খাদ্য ঝুঁকিতে রয়েছে বিশ্বের ৫৫  দেশ। ভয়াবহ এ দুর্ভিক্ষে ইতিমধ্যে পাঁ দিয়েছে ইয়েমেন, দক্ষিণ সুদানসহ পাঁচ দেশ। সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ডেভিড বিজলে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ‘কভিড-১৯ যে হুমকি তৈরী করেছে তাতে মানুষ বহুমাত্রিক দূর্ভিক্ষে পড়তে পারে। এতে দৈনিক ৩ লাখ মানুষের মৃত্যু ঘটতে পারে। যা হবে ‘ক্ষুধার মহামারি’। বিজলে বলেন, যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশগুলোতে কয়েক কোটি মানুষ রয়েছে।রয়েছে লাখ লাখ নারী ও শিশু। তারা ক্ষুধায় দিন কাটাচ্ছে, ফলে একটি দূর্ভিক্ষ অনেক বেশি বাস্তব হয়ে ধরা দিচ্ছে। 

এদিকে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) বলছে, বিশ্বে খাদ্য ফেলে দেয়ার ঘটনা ঘটলেও চাল ও গমের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। বর্তমানে বিশ্বে ১৮ কোটি টনের ওপর চালের মজুদ রয়েছে। এ বছর আরো উৎপাদন হবে ৫০ কোটি টন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্বে এখনও যে পরিমাণ খাদ্য আছে যদি তার সুষম বন্টন নিশ্চিত করা সম্ভব হয় তবে দুর্ভিক্ষ এড়ানো যাবে।

সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস, সিএনবিসি

Show More

Related Articles

Back to top button